দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। এ সময় তারা বাড়িঘর ও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। পশ্চিম তীরে ধারাবাহিক হামলার মধ্যে সর্বশেষ এ হামলার ঘটনা ঘটল।
মঙ্গলবার তুরস্কের আনাদোলু বার্তা সংস্থাকে স্থানীয় সূত্র জানায়, জালুদ গ্রামে তুবাসি পরিবারের দুটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বসতিস্থাপনকারীরা। প্রায় দুই মাস বাস্তুচ্যুত থাকার পর ইসরায়েলি আদালতের নির্দেশে বাড়িতে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিবারটির বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বসতিস্থাপনকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ইসরায়েলি বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হামলায় দুটি বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী বসতিস্থাপনকারীদের সুরক্ষা দেয় এবং এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী বন্দুকের মুখে তুবাসি পরিবারের সদস্যদের আবারও বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, রাতে জালুদে শতাধিক বসতিস্থাপনকারী বিক্ষোভ ও সহিংসতায় জড়ায়। তারা সড়ক অবরোধ, টায়ারে আগুন দেওয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত একটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে বাড়িতে ফিরতে সহায়তা করার কাজে বাধা দেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনি পরিবারটির বাড়ি ফেরার বিষয়টি সমন্বয় করা হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েলি সেনা ও সীমান্ত পুলিশ সদস্যরা এলাকায় অভিযান চালায় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষা দেয়। তবে সহিংসতার কারণে পরিবারটিকে বাড়িতে ফেরানোর কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
বাড়ির মালিক মাহমুদ তুবাসি আনাদোলুকে বলেন, আদালতের নির্দেশের পর তারা বাড়িতে ফিরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে পান। বসতিস্থাপনকারীরা বাড়িটি দখল করে রেখেছিল এবং মালিকদের সেখানে প্রবেশে বাধা দিয়েছিল। পরে রাতে তারা আবার ফিরে এসে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়িটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
বসতিস্থাপনকারীদের ধারাবাহিক হয়রানি ও সহিংসতার কারণে গত জুলাইয়ে তুবাসি পরিবারকে জালুদের বাড়ি ছেড়ে যেতে হয়েছিল।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সহিংসতা ক্রমেই বেড়েছে। চলতি বছর এ ধরনের হামলার মাত্রা আরও বেড়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা ১ হাজার ৩৩০টির বেশি। গড়ে প্রতিদিন ছয়টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা প্রায় ২০ বছরের মধ্যে দ্রুততম বৃদ্ধির হার।
বসতিস্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলো অনেক সময় ইসরায়েলি সেনাদের সহায়তা বা সুরক্ষায় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায়। গুলি চালানো, বাড়ি অবরোধসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নির্মিত ইসরায়েলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ।
মঙ্গলবার নাবলুসের দক্ষিণে কায়রুত এলাকায় এক বৃদ্ধ ফিলিস্তিনি নারীর বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর করে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসাকর্মী বাশার আল-কায়রুতি ধারণ করা একটি ভিডিওতে ওই নারীর হাত ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, একদল বসতিস্থাপনকারী বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ওই নারীকে মারধর করে।
মধ্য পশ্চিম তীরের রামাল্লার উত্তর-পূর্বে আল-মুগাইয়ির এলাকায়ও ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ও সম্পত্তিতে হামলা চালিয়েছে বসতিস্থাপনকারীরা। একই সময়ে ইসরায়েলি সেনারা গ্রামটিতে অভিযান চালিয়ে এক তরুণকে আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আনাদোলু জানায়, হামলায় তিনটি বাড়ি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এ সময় এক ফিলিস্তিনি আটক ব্যক্তির বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ইসরায়েল ও অধিকৃত ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির প্রতিনিধি দলের প্রধান জুলিয়েন লেরিসন বলেন, বসতিস্থাপনকারীদের বাড়তে থাকা কর্মকাণ্ডের কারণে ঘন ঘন ও গুরুতর সহিংসতার অবসান ঘটানো প্রয়োজন। সহিংসতা বসতিস্থাপনকারীদের মাধ্যমে সংঘটিত হলেও জনগণকে সহিংসতা থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আগস্টে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িত ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসরায়েলের ভাবমূর্তির গুরুতর ক্ষতি করছে।
জুনে জাতিসংঘের ১৪ জন বিশেষ প্রতিবেদক অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে রাষ্ট্রীয় সমর্থন ও যোগসাজশে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধিকে ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়গুলোর জন্য অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/